ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যমেলা বইয়ের ‘মরশুমের দিনে’ অধ্যায়ের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সম্পূর্ণ সাজানো নোটস ও ব্যাখ্যাসহ উত্তর পড়ো ।
ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা – ‘মরশুমের দিনে’ অধ্যায়ের সব প্রশ্নের উত্তর
১.১ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম কী?
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
২.১ ‘ধান’
শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
‘ধান’ শব্দটি সংস্কৃত ‘ধান্য’ শব্দ থেকে এসেছে।
২.২ ‘অগ্রহায়ণ’
বলতে কী বোঝায়?
অগ্রহায়ণ হলো বাংলা বছরের একটি মাস, যা মূলত নতুন ধান ওঠার
সময় হিসেবে পরিচিত।
২.৩ “এদেশের সমস্ত পালা-পার্বণ, আনন্দ-উৎসব— এসবের মূলে
কী রয়েছে?”
এদেশের সমস্ত পালা-পার্বণ, আনন্দ-উৎসবের
মূলে রয়েছে চাষবাস।
২.৪ বসুধারা
ব্রত কোন ঋতুতে হয়?
বসুধারা ব্রত বর্ষাকালে হয়।
২.৫ মেঘকে নামাবার জন্য মেয়েরা দল বেঁধে ছড়া করে তাকে
কী কী নামে ডাকে?
মেয়েরা মেঘকে ‘মেঘরানি’, ‘মেঘদেবতা’
ইত্যাদি নামে ডাকে।
৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ
এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো
|
শব্দ |
রূপান্তর |
|
মফস্বল |
মফস্বলি |
|
বৎসর |
বাৎসরিক |
|
খর |
খরা |
|
ব্রত |
ব্রতী |
|
বিস্তর |
বিস্তার |
|
পর্বত |
পার্বত্য |
|
ঝড় |
ঝড়ো |
৪. নীচের বাক্যগুলি গঠনগতভাবে কোন ধরনের লেখো
৪.১
শ্রীমের যাত্রীরা নেমে নেমে যাবে মাঝরাস্তায়।
এটি সরল বাক্য।
৪.২ যেখানে ঘাসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না, হঠাৎ চোখে
পড়বে সেখানে যেন কে সবুজ জাজিম পেতে রেখেছে।
এটি জটিল বাক্য।
৪.৩ আয়বৃষ্টি
ঝেঁপে, ধান দেব মেপে।
এটি যৌগিক বাক্য।
৪.৪ খড় কিংবা টিনের
চাল।
এটি সরল বাক্য।
৫. নীচের বাক্যগুলি থেকে শব্দবিভক্তি
এবং অনুসর্গ খুঁজে লেখো
৫.১
কেউ এসেছিল দোকানের জন্য মাল তুলতে।
· শব্দবিভক্তি : দোকানের
· অনুসর্গ : জন্য
৫.২ বৃষ্টির বমবম শব্দে অন্য সমস্ত আওয়াজ ডুবে যায়।
· শব্দবিভক্তি : বৃষ্টির,
শব্দে
· অনুসর্গ : নেই
৫.৩
সন্ধে নাগাদ উলু দিয়ে ব্রত শেষ হয়।
· শব্দবিভক্তি : সন্ধে
· অনুসর্গ : দিয়ে
৫.৪ ছেলেরা
হই হই করে ছোটে আমবাগানে।
· শব্দবিভক্তি : ছেলেরা,
আমবাগানে
· অনুসর্গ : করে
৬. পাঠ থেকে নিম্নলিখিত শব্দগুলির সমার্থক শব্দ লেখো
|
শব্দ |
সমার্থক
শব্দ |
|
অন্বর |
শস্যশ্যামলা |
|
ধরা |
পৃথিবী |
|
মৃত্তিকা |
মাটি |
|
প্রান্তর |
মাঠ |
|
তটিনী |
নদী |
৭. সমোচ্চারিত/প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক
শব্দগুলির অর্থ লেখো
|
শব্দ |
অর্থ |
|
ধোয়া |
পরিষ্কার
করা |
|
ধোঁয়া |
আগুনের
ধূসর বাষ্প |
|
জ্বলে |
পোড়ে |
|
জলে |
পানিতে |
|
বাধা |
আটকানো |
|
বাঁধা |
বেঁধে
রাখা |
|
গায়ে |
শরীরে |
|
গেয়ে |
গান
গেয়ে |
|
ঝরে |
পড়ে
যায় |
|
ঝড়ে |
প্রবল
বাতাসে |
৮. শুদ্ধ বানানটিতে ‘✓’
চিহ্ন দাও
৮.১ মুহূর্ত ✓
৮.২ অগ্রহায়ণ ✓
৮.৩ বিলক্ষণ ✓
৮.৪ মরীচিকা ✓
৯. বেলা, ডাল, সারা, চাল — শব্দগুলিকে
দুটি পৃথক অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখো
বেলা
১. দুপুরবেলা আমি পড়তে বসি।
২. বেলাগাছের নিচে অনেক ফল পড়ে আছে।
ডাল
১. মা আজ মুগডাল রান্না করেছেন।
২. গাছের ডালে পাখি বসে আছে।
সারা
১. সারা দিন বৃষ্টি হলো।
২. শিক্ষক ডাকতেই ছাত্রটি সাড়া দিল।
চাল
১. আমাদের বাড়িতে নতুন চাল এসেছে।
২. খেলায় তার চমৎকার চাল সবাইকে অবাক
করল।
১০.
টীকা লেখো
মরীচিকা
মরুভূমিতে দূর থেকে জলের মতো যে ভ্রম সৃষ্টি হয় তাকে মরীচিকা
বলে।
বসুধারা
বর্ষাকালে বৃষ্টির জন্য করা এক ধরনের ব্রতকে বসুধারা বলা হয়।
ব্রত
কোনো বিশেষ কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় নিয়ম মেনে পালন করা আচারকে
ব্রত বলে।
মেঘরানীর কুলো
বৃষ্টির জন্য মেয়েদের গাওয়া ছড়া ও আচার অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত
কুলোকে মেঘরানীর কুলো বলা হয়।
ভাদুলি
ভাদ্র মাসে পালন করা একটি লোকাচার বা ব্রতের নাম হলো ভাদুলি।
১১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১১.১ বাস-ডিপোয় অপেক্ষমান যাত্রীদের ছবি কীভাবে পাঠ্যাংশে
ধরা পড়েছে?
পাঠ্যাংশে বাস-ডিপোর যাত্রীদের ক্লান্ত,
ব্যস্ত ও অধীর অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কেউ বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, কেউ ভিজে কাপড়
সামলাচ্ছে, আবার কেউ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। এইভাবে সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র সুন্দরভাবে
ফুটে উঠেছে।
১১.২ “গ্রামের সঙ্গে শহরের যে এখনও
নাড়ির টান”— এই নাড়ির টানের প্রসঙ্গ কীভাবে এসেছে?
শহরে বাস করলেও গ্রামের উৎসব, চাষবাস,
ধান কাটার সময় ও গ্রামীণ জীবনের স্মৃতি মানুষকে টেনে নিয়ে যায়। তাই শহরের মানুষের
মনেও গ্রামের প্রতি টান থেকে যায়।
১১.৩ “ধানের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু বৃষ্টি”—
বৃষ্টির সময়ে ধানক্ষেতের ছবিটি কেমন?
বৃষ্টির সময় ধানক্ষেত সবুজে ভরে ওঠে।
মাঠ জলে চকচক করে এবং ধানের গাছ সতেজ হয়ে দুলতে থাকে। অন্য সময় ধান চারা রোপণ, বেড়ে
ওঠা ও পাকার সময়ও মাঠের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায়।
১১.৪ “আগে বছর আরম্ভ হতো অগ্রহায়ণে”— এর সম্ভাব্য কারণ
কী?
আগে কৃষিনির্ভর সমাজে নতুন ধান ওঠার
সময়কে বছরের শুরু হিসেবে ধরা হতো। তাই অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ফসল পাওয়া গেলে সেখান
থেকেই বছরের সূচনা ধরা হতো।
১১.৫ “এদেশের যত পালা-পার্বণ, উৎসব-আনন্দ,
সব কিছুরই মূলে রয়েছে চাষবাস।” — ব্যাখ্যা করো।
বাংলার অধিকাংশ উৎসব কৃষিকাজের সঙ্গে
যুক্ত। নতুন ধান ওঠার আনন্দে নবান্ন, বৃষ্টির কামনায় বিভিন্ন ব্রত, ফসল কাটার উৎসব—
সবই কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই বাংলার সংস্কৃতি ও চাষবাস একে অপরের সঙ্গে
গভীরভাবে জড়িত।
১১.৬ “শহর ছাড়ালেই দু-পাশে দেখা যাবে”—
শহরের চিত্রটি কেমন? তা ছাড়িয়ে গেলে কোন দৃশ্য দেখা যায়?
শহরে ভিড়, কোলাহল, বাড়িঘর ও যানবাহনের
ভিড় দেখা যায়। শহর ছাড়িয়ে গেলে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, নদী, গাছপালা ও গ্রামবাংলার
সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ে।
১১.৭ “এই রাস্তার ওপরই এক ভারি মজার
দৃশ্য দেখা যায়”— মজার দৃশ্যটি কেমন?
বৃষ্টির মধ্যে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা
আনন্দে দৌড়াদৌড়ি করছে, কেউ মাছ ধরছে, কেউ কাদায় খেলছে— এই দৃশ্যটিকেই মজার দৃশ্য
বলা হয়েছে।
১১.৮ ব্রতের ভিতর দিয়ে মনে পড়ে যায়
সেই আপনজনদের কথা, যারা দূরে আছে — এমন কিছু ব্রতের ছড়া লেখো।
১. আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দেব মেপে।
২. মেঘরানি মেঘরানি, জল দাও টানি টানি।
৩. ও মেঘদেবতা, নামাও ধারা। শুকিয়ে
গেছে মাঠঘাট, ভরাও সারা।
১১.৯ বিভিন্ন ঋতুবিষয়ক প্রচলিত ছড়া
আর ছবি সাজিয়ে বিদ্যালয়ে দেয়াল-পত্রিকা তৈরি করো।
নিজেদের উদ্যোগে বর্ষা, শীত, গ্রীষ্ম,
বসন্ত ইত্যাদি ঋতুকে কেন্দ্র করে ছড়া, কবিতা, ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে সুন্দরভাবে দেয়াল-পত্রিকা
তৈরি করা যায়।
১১.১০ “ধান কাটার পর একেবারে আলাদা
দৃশ্য”— এই দৃশ্যে কোন ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে?
এখানে হেমন্ত ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে। এই সময় মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। চারদিকে খড়ের গাদা দেখা যায় এবং কৃষকদের মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। প্রকৃতিও তখন শান্ত ও মনোরম হয়ে ওঠে।
Related Searches :-
0 মন্তব্যসমূহ
কোনো প্রশ্ন থাকলে জানাও