Recents in Beach

ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | অধ্যায় ৬ | অনুশীলনী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

📜 সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন

ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস | অধ্যায় ৬ | অনুশীলনী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

✅ ঠিক/ভুল✅ সঠিক ব্যাখ্যা✅ হাতেকলমে✅ ভেবে দেখো
📌 শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই পোস্টে ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাসের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন’-এর পৃষ্ঠা ৯৭-এর অনুশীলনী, “ভেবে দেখো” অংশ এবং পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। মৌর্য, কুষাণ, সাতবাহন ও গুপ্ত যুগের পড়া একসঙ্গে ঝালিয়ে নাও!

🔴 বিভাগ ক: পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

✏️ অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর)

১. রাজা ও সম্রাটের মধ্যে মূল তফাত কী?
উত্তর: রাজা একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের শাসক। বহু রাজ্য ও বিরাট অঞ্চল নিয়ে গঠিত সাম্রাজ্যের সর্বময় শাসক হলেন সম্রাট বা বড়ো রাজা।
২. ভারতের প্রথম সাম্রাজ্য কোনটি এবং এর রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: ভারতের প্রথম সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্য; রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।
৩. ভারতের জাতীয় প্রতীকটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: সম্রাট অশোকের সারনাথের সিংহস্তম্ভ থেকে (১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি)।
৪. মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? তিনি কাকে পরাজিত করে সিংহাসনে বসেন?
উত্তর: প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তিনি চাণক্যের সহায়তায় নন্দবংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে সিংহাসনে বসেন।
৫. মৌর্য যুগে রচিত রাষ্ট্রশাসন সংক্রান্ত বিখ্যাত বইটির নাম কী এবং রচয়িতা কে?
উত্তর: বইটির নাম ‘অর্থশাস্ত্র’; রচয়িতা কৌটিল্য (চাণক্য)।
৬. সেল্যুকাসের কোন গ্রিক দূত চন্দ্রগুপ্তের রাজসভায় এসেছিলেন? তাঁর লেখা বইটির নাম কী?
উত্তর: দূত ছিলেন মেগাস্থিনিস; তাঁর বইয়ের নাম ‘ইন্ডিকা’।
৭. অশোকের আমলে কোন বিখ্যাত যুদ্ধ হয়েছিল? এরপর তিনি কার কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন?
উত্তর: কলিঙ্গ যুদ্ধ। যুদ্ধের ভয়াবহতার পর তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী উপগুপ্তের কাছে দীক্ষা নেন।
৮. মৌর্য যুগে জেলা প্রশাসনকে কী বলা হতো?
উত্তর: ‘আহার’।
৯. মৌর্য আমলে প্রচলিত দুই ধরনের ভূমি-রাজস্ব কী কী ছিল?
উত্তর: ‘বলি’ ও ‘ভাগ’। সাধারণত উৎপন্ন ফসলের ১/৬ অংশ রাজস্ব হিসেবে নেওয়া হতো।
১০. অশোক কোন গ্রামে ‘বলি’ কর ছাড় দিয়েছিলেন?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী গ্রামে।
১১. শেষ মৌর্য সম্রাট কে ছিলেন? তাঁকে সরিয়ে কে সিংহাসন দখল করেন?
উত্তর: শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথ। তাঁকে সরিয়ে পুষ্যমিত্র শুঙ্গ শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
১২. কুষাণরা কোন যাযাবর জাতির শাখা? কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: মধ্য এশিয়ার ইউয়ে-ঝি জাতির শাখা ‘কু-এই-শুয়াং’। সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব কুজুল কদফিসেসের।
১৩. কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে? ‘শকাব্দ’ কোন বছর থেকে গণনা শুরু হয়?
উত্তর: শ্রেষ্ঠ রাজা প্রথম কনিষ্ক। তাঁর সিংহাসনে বসার বছর, অর্থাৎ ৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে শকাব্দ গণনা শুরু।
১৪. কনিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: পুরুষপুর (পেশোয়ার)।
১৫. সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে এবং শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: প্রতিষ্ঠাতা সিমুক; শ্রেষ্ঠ শাসক গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী।
১৬. সাতবাহনদের সঙ্গে কাদের প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল?
উত্তর: পশ্চিম ভারতের শক-ক্ষত্রপদের সঙ্গে।
১৭. ‘গুপ্তাব্দ’ কোন বছর থেকে এবং কার আমলে চালু হয়?
উত্তর: ৩১৯–৩২০ খ্রিস্টাব্দে, প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সময় থেকে।
১৮. এলাহাবাদ প্রশস্তি কার রচনা? এতে কার গুণগান আছে?
উত্তর: সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণের রচনা; এতে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় ও কৃতিত্বের কথা আছে।
১৯. কোন গুপ্ত সম্রাট ‘শকারি’ উপাধি নিয়েছিলেন এবং কেন?
উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত; কারণ তিনি গুজরাট থেকে শক-ক্ষত্রপদের উচ্ছেদ করেছিলেন।
২০. কার আমলে নালন্দা মহাবিহার তৈরি হয়? কাকে ভারতের রক্ষাকারী বলা হয়?
উত্তর: প্রথম কুমারগুপ্তের আমলে নালন্দা মহাবিহার গড়ে ওঠে। হূণ আক্রমণ প্রতিহত করায় স্কন্দগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকারী বলা হয়।
২১. হর্ষবর্ধন কবে সিংহাসনে বসেন? তাঁর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: ৬০৬ খ্রিস্টাব্দে (এই বছর থেকে হর্ষাব্দ গণনা)। উপাধি ‘শিলাদিত্য’ ও ‘সকলোত্তরপথনাথ’।
২২. ‘হর্ষচরিত’ ও ‘সি-ইউ-কি’ কার কার রচনা?
উত্তর: ‘হর্ষচরিত’ বাণভট্টের এবং ‘সি-ইউ-কি’ চিনা পর্যটক সুয়ান জাং (হিউয়েন সাং)-এর রচনা।
২৩. কোন চালুক্য রাজার কাছে হর্ষবর্ধন পরাজিত হন? এর প্রমাণ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর কাছে। রবিকীর্তির লেখা ‘আইহোল প্রশস্তি’-তে এর উল্লেখ আছে।

✏️ সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (২ ও ৩ নম্বর)

২৪. অশোকের ‘ধম্ম’ বলতে কী বোঝায়? এটি কি বৌদ্ধ ধর্ম ছিল?
উত্তর: অশোকের ধম্ম কোনো নির্দিষ্ট ধর্মমত ছিল না। এতে বৌদ্ধ ধর্মের চার আর্যসত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা নির্বাণের কথা ছিল না। এটি ছিল কিছু সার্বজনীন নৈতিক ও সামাজিক সদাচারের সমষ্টি, যেমন অহিংসা, প্রাণীহত্যা না করা, পিতা-মাতা ও গুরুজনকে মান্য করা, সত্য বলা এবং সব জীবের প্রতি দয়া।
২৫. কুষাণ শাসনব্যবস্থায় ‘দেবকুল’ ধারণাটি কী ছিল?
উত্তর: কুষাণরা নিজেদের ‘দেবপুত্র’ বলে প্রচার করতেন। প্রজাদের আনুগত্য পেতে তাঁরা মন্দিরের মতো পুজোর জায়গা গড়ে সেখানে নিজেদের মূর্তি রাখতেন। এই মন্দিরগুলিকে বলা হতো ‘দেবকুল’ (যেমন মথুরার দেবকুল)।
২৬. গুপ্ত ও বাকাটক আমলের প্রশাসনিক স্তরগুলি কেমন ছিল?
উত্তর:
  • সাম্রাজ্যের প্রধান ছিলেন সম্রাট নিজে।
  • সাম্রাজ্য বিভক্ত ছিল প্রদেশ বা ‘ভুক্তি’-তে (বাকাটকদের ক্ষেত্রে ‘রাজ্য’)।
  • প্রদেশ বিভক্ত ছিল জেলা বা ‘বিষয়’-এ (বাকাটকদের ক্ষেত্রে ‘পট্ট’ বা ‘আহার’)।
  • জেলা গঠিত হতো একাধিক গ্রাম নিয়ে; গ্রাম ছিল শাসনের সর্বনিম্ন একক।

🟢 বিভাগ খ: অনুশীলনীর সম্পূর্ণ সমাধান (পৃষ্ঠা ৯৭)

১। নীচের বাক্যগুলির কোনটি ঠিক, কোনটি ভুল লেখো

১.১) সেলুকাস ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের মধ্যে চিরকাল শত্রুতা ছিল।
উত্তর: ভুল ✘
কারণ: প্রথমে সংঘাত হলেও পরে চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের বিবাদ মেটে এবং মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
১.২) মৌর্য আমলে মেয়েরাও মহামাত্যের দায়িত্ব পেতেন।
উত্তর: ঠিক ✔
কারণ: অশোকের শাসনকালে মেয়েদেরও মহামাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রমাণ মেলে।
১.৩) কুষাণরা এদেশেরই মানুষ ছিলেন।
উত্তর: ভুল ✘
কারণ: কুষাণরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার যাযাবর ‘ইউয়ে-ঝি’ জাতির একটি শাখা।
১.৪) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত গুপ্তাব্দ গোনা চালু করেন।
উত্তর: ঠিক ✔
কারণ: ৩১৯–৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসনে বসার সময় থেকে গুপ্তাব্দ গণনা শুরু হয়।

২। কোন ব্যাখ্যাটি বিবৃতির সঙ্গে সবথেকে বেশি মানানসই?

২.১) বিবৃতি: অশোক তাঁর সাম্রাজ্যে পশুহত্যা বন্ধ করেছিলেন।
  • ব্যাখ্যা ১: তাঁর রাজ্যে পশুর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।
  • ব্যাখ্যা ২: ধম্মের অনুসরণ করার জন্য।
  • ব্যাখ্যা ৩: পশুবাণিজ্য বাড়ানোর জন্য।
২.২) বিবৃতি: কুষাণ সম্রাটরা নিজেদের মূর্তি দেবকুলে রাখতেন।
  • ব্যাখ্যা ১: তাঁরা ছিলেন দেবতার বংশধর।
  • ব্যাখ্যা ২: তাঁরা প্রজাদের সামনে নিজেদের দেবতার মতোই সম্মাননীয় বলে হাজির করতেন।
  • ব্যাখ্যা ৩: তাঁরা দেবতাকে খুব ভক্তি করতেন।
২.৩) বিবৃতি: গুপ্ত সম্রাটরা বড়ো বড়ো উপাধি নিতেন।
  • ব্যাখ্যা ১: উপাধিগুলি শুনতে ভালো লাগত।
  • ব্যাখ্যা ২: উপাধিগুলি প্রজারা দিত।
  • ব্যাখ্যা ৩: সম্রাটরা এর মাধ্যমে নিজেদের বিরাট ক্ষমতাকে তুলে ধরতেন।
২.৪) বিবৃতি: সুয়ান জাং চিন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিলেন।
  • ব্যাখ্যা ১: ভারতীয় উপমহাদেশে বেড়ানোর জন্য।
  • ব্যাখ্যা ২: হর্ষবর্ধনের শাসন বিষয়ে বই লেখার জন্য।
  • ব্যাখ্যা ৩: বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করার জন্য।

৩। নিজের ভাষায় ভেবে লেখো (তিন/চার লাইন)

৩.১) কলিঙ্গযুদ্ধের ফলাফলের সঙ্গে অশোকের ধম্মের কী সম্পর্ক? ধম্ম তাঁর শাসনকে কতটা প্রভাবিত করেছিল?
উত্তর: কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত ও বহু মানুষের মৃত্যু দেখে অশোক গভীরভাবে অনুতপ্ত হন এবং যুদ্ধনীতি ত্যাগ করে অহিংসার পথ বেছে নেন। এর ফলেই তাঁর মানবতাবাদী ‘ধম্ম’-এর সূচনা হয়। ধম্মের প্রভাবে তিনি দিগ্বিজয় বন্ধ করে ধর্মবিজয়ের নীতি নেন, শিকার ও পশুহত্যা নিষিদ্ধ করেন এবং প্রজাদের সন্তানের মতো ভালোবেসে জনকল্যাণমূলক শাসন চালু করেন।
৩.২) মৌর্য সম্রাটরা গুপ্তচর কেন নিয়োগ করতেন?
উত্তর: সুবিশাল মৌর্য সাম্রাজ্যে শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুপ্তচরদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজকর্মচারী, সাধারণ প্রজা, অচেনা সন্দেহভাজন ব্যক্তি, এমনকি রাজপুত্রদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এবং সাম্রাজ্যের গোপন খবর সরাসরি সম্রাটের কাছে পৌঁছে দিতে গুপ্তচর নিয়োগ করা হতো।
৩.৩) মৌর্য সম্রাট ও গুপ্ত সম্রাটদের মধ্যে ক্ষমতা ও মর্যাদার তুলনা করো।
উত্তর: মৌর্য ও গুপ্ত, দুই আমলেই সম্রাট ছিলেন শাসন ও বিচারব্যবস্থার সর্বময় কর্তা। মৌর্য সম্রাটরা ‘দেবানংপিয়’ (দেবতাদের প্রিয়) বা ‘পিয়দসি’-র মতো উপাধি নিতেন, তবে নিজেদের ঈশ্বর বলে দাবি করেননি; তাঁদের শাসনও ছিল বেশি কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে গুপ্ত সম্রাটরা ‘মহারাজাধিরাজ’-এর মতো জমকালো উপাধি নিতেন এবং নিজেদের দেবতার সমকক্ষ হিসেবে তুলে ধরতেন। গুপ্তদের শাসন তুলনায় বিকেন্দ্রীভূত ছিল, প্রাদেশিক শাসক ও সামন্তরাও যথেষ্ট ক্ষমতা ভোগ করতেন।

৪। হাতেকলমে করো

মৌর্য, কুষাণ ও গুপ্ত আমলের মুদ্রাগুলির তুলনা করলে কী কী মিল-অমিল দেখা যাবে?
তুলনার বিষয়মৌর্য আমলের মুদ্রাকুষাণ আমলের মুদ্রাগুপ্ত আমলের মুদ্রা
ধাতুমূলত রুপো ও তামাপ্রচুর সোনার মুদ্রা এবং তামার মুদ্রাবহু সোনার মুদ্রা (‘দিনার’); পরে রুপোর মুদ্রাও
রূপ ও নির্মাণনির্দিষ্ট গোল ছাঁচ ছিল না; ধাতু পিটিয়ে ছাপ দেওয়া (Punch-marked)সুন্দর গোল ছাঁচে ঢালাই করা, গ্রিক মুদ্রার অনুকরণে তৈরিনিখুঁত গোল, শিল্পসুষমাময় ও অলংকৃত
খোদাই করা চিত্রসূর্য, গাছ, পাহাড়, পশু প্রভৃতির প্রতীক; শাসকের ছবি থাকত নাএকপিঠে জ্যোতির্বলয়যুক্ত সম্রাটের মূর্তি, অন্যপিঠে দেবদেবীর প্রতিকৃতিসম্রাটের যুদ্ধবেশ, শিকার বা বীণাবাদনরত রূপ, অশ্বমেধের ঘোড়া এবং দেবীর মূর্তি
লিপি ও ভাষারাজার নাম বা উপাধি থাকত নাগ্রিক ও খরোষ্ঠী হরফে সম্রাটের উপাধিসংস্কৃত ভাষা ও গুপ্ত ব্রাহ্মী লিপিতে রাজার বীরত্ব ও উপাধি
🔗 প্রধান মিল: তিন আমলেই মুদ্রা বাণিজ্য ও লেনদেনের মাধ্যম ছিল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরিচয় বহন করত।
⚡ প্রধান অমিল: মৌর্য মুদ্রায় শাসকের নাম বা ছবি থাকত না; কিন্তু কুষাণ ও গুপ্ত মুদ্রায় শাসকের স্পষ্ট প্রতিকৃতি, নাম, উপাধি ও কৃতিত্ব তুলে ধরা হতো।

🟡 বিভাগ গ: “ভেবে দেখো” অংশের সমাধান

📖 অর্থশাস্ত্র সম্পর্কিত প্রশ্ন (পৃষ্ঠা ৮১)

অর্থশাস্ত্রের মতো আর কোন কোন বইয়ের লেখক একজন নন?
উত্তর: রামায়ণ ও মহাভারত। এই মহাকাব্য দুটি বহু বছর ধরে বহু কবির রচনায় বর্তমান রূপ পেয়েছে।
এইভাবে অনেকে মিলে বই লেখা হতো কেন?
উত্তর: প্রাচীনকালে কোনো তত্ত্ব বা বিধানকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী পণ্ডিতরা নতুন নিয়ম ও ব্যাখ্যা যোগ করে যুগোপযোগী করে তুলতেন। তাই এক গ্রন্থের রচনায় একাধিক ব্যক্তির হাত থাকত।

🗓️ দৈনন্দিন কাজের তালিকা (পৃষ্ঠা ৮৪)

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে রাজার রুটিনের মতো তোমাদের সারাদিনের কাজের তালিকা বানাও।
উত্তর (নমুনা ছক):
  • সকাল (৬টা – ৯টা): ঘুম থেকে ওঠা, প্রাতরাশ ও স্কুলের পড়া তৈরি করা।
  • বেলা (৯টা – বিকেল ৪টা): স্নান-খাওয়া, স্কুলে ক্লাস করা ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা।
  • বিকেল (৪টা – সন্ধ্যা ৬টা): মাঠে খেলাধুলো ও শারীরিক ব্যায়াম।
  • সন্ধ্যা ও রাত (৬টা – ১০টা): বাড়ির পড়ার কাজ, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা ও নৈশভোজ।
  • রাত (১০টা – সকাল ৬টা): টানা ৮ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকর ঘুম।
(নিজের রুটিন অনুযায়ী সময় বদলে লিখতে পারো।)

⏳ মনে রাখার মতো সাল-তারিখ ও তথ্য

৭৮ খ্রিস্টাব্দ → কনিষ্কের সিংহাসন আরোহণ; শকাব্দ গণনার শুরু

৩১৯–৩২০ খ্রিস্টাব্দ → প্রথম চন্দ্রগুপ্তের আমলে গুপ্তাব্দের শুরু

৬০৬ খ্রিস্টাব্দ → হর্ষবর্ধনের সিংহাসন আরোহণ; হর্ষাব্দের শুরু

মৌর্য: চন্দ্রগুপ্ত (প্রতিষ্ঠাতা) → অশোক (কলিঙ্গ যুদ্ধ, ধম্ম) → বৃহদ্রথ (শেষ সম্রাট)

গুপ্ত: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত → সমুদ্রগুপ্ত (এলাহাবাদ প্রশস্তি) → দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (শকারি) → প্রথম কুমারগুপ্ত (নালন্দা) → স্কন্দগুপ্ত (হূণ প্রতিরোধ)

🎓 Mahas Classes
পড়ো, শেখো, এগিয়ে চলো! আরও অধ্যায়ের সমাধান পেতে ব্লগটি ফলো করো ও বন্ধুদের শেয়ার করো।
🏠 হোমপেজে ফিরে যাও

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ